মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় দাস
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১১-০৯-২০২৬ ১১:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৯-২০২৬ ১১:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
জীবিদ্দশায় প্রাণপ্রিয় পুত্রকে দেখার আকুতি ছিল বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গর্ভধারিনী মা সন্ধ্যা রাণী ধরের। তবে, মায়ের ইচ্ছা পূরণ না হলেও ইচ্ছে পূরণ হলো পুত্রের। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তাকে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মায়ের সৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য চিন্ময়ের পক্ষে তার ভাই রঞ্জন কুমার ধর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তার প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিকেল থেকে পুণ্ডরীক ধামে গিয়ে দেখা যায়, চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটি শ্যামকুণ্ডের পাশেই রাখা হয়েছে।
সেখানে স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধু-সন্ত ও ভক্তরা সমবেত হচ্ছেন। মরদেহ ঘিরে চলছে সমবেত কীর্তন। একদিকে মায়ের শেষযাত্রার প্রস্তুতি, অন্যদিকে ছেলের অপেক্ষা পুরো পুণ্ডরীক ধামজুড়ে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।
চিন্ময়ের আগমনকে ঘিরে পুণ্ডরীক ধামে বাড়ছে মানুষের ভিড় করে। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানাতে লোকজন আসেন।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় পুণ্ডরীক ধাম এলাকায় বিপুল পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরাও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে পুণ্ডরীক ধামের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পামাপাশি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে মারা যান সন্ধ্যা রাণী ধর। এরপর তার মরদেহ সেখানেই রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিকাল ৫ টা ৫ মিনিটে দিকে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে হাটহাজারীর পুণ্ডরিক ধামে পৌঁছান চিন্ময়। তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক গাড়ি অবস্থান নেয়। সেখানে প্রায় ১৪টির বেশি পুলিশের গাড়ি দেখা যায়।
পুণ্ডরিক ধামে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে শিব মন্দিরে প্রণাম করেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। এরপর শ্রীল পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের মন্দির, রাধাকৃষ্ণ মন্দির, কাত্যায়নি মন্দির, শ্রীল প্রভুপাদের মন্দির, গিরি গোবর্ধন মন্দির ও সর্বতীর্থ মৃত্তিকা পরিক্রমা মন্দিরে প্রণাম করেন। পরে হরিস্নান করেন তিনি। এরপর মায়ের শেষকৃত্যের জন্য তাকে সমাধিস্থলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মায়ের মরদেহের কাছে যাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন চিন্ময়। অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। তাকে ঘিরে থাকা অনুসারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আবেগ। অনেক ভক্ত ও অনুসারীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
পুণ্ডরিক ধামে এ সময় ভক্তদের ভিড় থাকলেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পুরো এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তার মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিটে পুণ্ডরীক ধাম থেকে পুনরায় চট্টগ্রাম কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স